মেনু নির্বাচন করুন

মধুমতি নদী

মধুমতিঃ

মধুমতি পদ্মা একটি শাখা নদী। এর অপর অংশের নাম গড়াই। মরমী কবি লালনশাহ এর স্মৃতিধন্য কুষ্টিয়া জেলার পাঁচ কিলোমিটার উজানে তালবাড়িয়া নামক স্থানে গড়াই নদীর উৎপত্তিস্থল। গড়াই নদীর গতিপথ দীর্ঘ এবং বিস্তৃত। উৎপত্তিস্থল হতে মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর পর্যন্ত নাম গড়াই । এখান হতে নদীর নাম হয় মধুমতি । মিষ্টি পানি বহন করে বলে সম্ভবত এর নাম মধুমতি। কামারখালি হতে মোহনা পর্যন্ত নদীর পানিতে জোয়ার ভাটা খেলে। মধুমতি খুলনা জেলার আঠারবেকীতে বাগেরহাট জেলায় প্রবেশ করেছে। পরবর্তীতে বরিশালের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হরিণঘাটা মোহনার নিকট বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। মধুখালী উপজেলার কামারখালী হতে মধুমতি নদী বোয়ালমারী, কাশিয়ানী, ভাটিয়াপাড়া, গোপালগঞ্জের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পিরোজপুরের নাজিরপুর গিয়ে মিশেছে। গড়াই (মধুমতি) নদীর তীরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত শিলাইদহ কুঠিবাড়ী কুষ্টিয়া শহর হতে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে নদীর তীরবর্তী স্থানে অবস্থিত । বাউল সম্রাট লালন শাহের মাজার গড়াই নদীর তীরে ছেউড়িয়া গ্রামে অবস্থিত। বাংলার অন্যতম লেখক রায় বাহাদুর জলধর সেনের বাড়ী মধুমতির তীরবর্তী কুমারখালীতে অবস্থিত। স্বাধীনতার পূর্বে মধুমতি নদীর নব্যতা যখন বেশি ছিল। তখন নদীতে কুমির, কামট ও ভাসাল জাতীয় হিংস্র জলজ প্রাণী বাস করত। মানুষ এদের ভয়ে নদীর কুলে খওড় বানিয়ে গোসল করত। মধুমতি নদীতে সুস্বাদু মাছ পাওয়া যায়। যেমনঃ ইলিশ, রিটা, বাচা, ঘাড়ো, পোয়া, চিংড়ি, বেলে, আইড়, রুই কাতলা, মৃগেল, চাপলে, বাশপাতা, ছনখুড়ো, রাম টেংরা ও কালিবাউশ প্রভৃতি।


Share with :

Facebook Twitter