মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

আলফাডাঙ্গা উপজেলার প্রখ্যাত ব্যক্তিতবদের নামঃ

১)  নুরুল মোমেনঃ

      নুরুল মোমেন ( জনম ১লা মার্চ ১৯০৮ মৃত্যু ১৯৯০) তিনি যশোর জেলার বর্তমান ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারের জনম গ্রহণ করেন। নুরুল মোমেন মুলতঃ নাট্যকার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি,এ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি,এ এল.এল.বি. এম, এ পাশ করেন। কর্মজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে অধ্যাপনা করেন। পরে বি বি সি‘র শিশু বিভাগের পরিচালক হন। পান্ডিত্য পূর্ণ  এবং গবেষণা মূলক রচনার ক্ষেত্রে তিনি বিশব নন্দিত তাঁর লেখা গ্রন্থপুঞ্জি (১) নোমেসিস (নাটক ১৯৪৮), (২) রুপান্তর ( ১৯৫৯), (৩) যদি এমন হতো ( ১৯৬০), (৪) নয়াখান্দার (১৯৬২), (৫) আলো ছায়া ( ১৯৬২), (৬) আইনের অন্তরালে (১৯৬৭), (৭) শতকরা আশি (১৯৬৯), (৮) যেমন ইচ্ছা তেমন (১৯৭০), (৯) হিং টিং ছট ( ১৯৭১), রম্য রচনা (১০) বহুরুপি (১৩৫৬ বাঃ) (১১) নর সুন্দর ( ১৯৬১), (১২) গল্প গ্রন্থ আলো ছায়া, (১৩) অনুবাদ ‘‘ হলক বারিফিনের সুঃসাহসিক অভিযান (১৯৮৫), (১৪) সম্মান (১৫) অন্ধকারটাই আলো (১৬) হোসেন সর্দারের উইল, (১৭) মুসলীম আইন। নাটকে, বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬১) ১৯৬৭ সালে সেতারই ইমতিয়াজ খেতাব লাভ করেন। ১৯৭১ সালে রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্র থেকে শালিকা রিনা নাসরিনকে সঙ্গে নিয়ে হিং টিং ছট অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন।

২)  কবি আশরাফ আলী খানঃ

      সাবেক যশোর জেলার বর্তমান ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার পানাইল খান পরিবারে ১০ই ভাদ্র, ১৩০৮ সনে (১৯০১ খৃস্টাব্দের আগষ্টে) জনম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম দেলোয়ার হোসেন খান। কবি আশরাফ আলী খান ছিলেন একজন বিপ্লবী প্রকৃতির মানুষ। জাগতিক সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের বেড়াজালে জড়িত হতে না পেরে কবিতা, গান, সুর সঙ্গীতের সাধনার মধ্যে পেয়েছিলেন আনন্দ। আনন্দ বললে ভুল হবে কারণ তাঁর ‘‘ কল্কাল ’’ বইতে পাওয়া যায় তিনি কোন দিন আনন্দে কাটাতে পারেননি, শুধু অভাব তাকে তাড়না করেছে। গ্রামের স্কুল থেকে পড়ার পাঠ শেষ করে কলকাতা প্রেসিডেন্সী কলেজে আই, এ ক্লাসে ভর্তি হন। এ সময় খেলাফত আন্দোলনে যোগ দেন। পরে কলকাতা ইনকাম ট্যাক্স অফিসে কেরানীর পদে যোগদান করেন। অতঃপর আয়কর বিভাগের চাকুরী ত্যাগ করে হায়দারাবাদে রেজিমেন্ট সৈনিকে যোগ দেন। কিন্ত সৈনিকের চাকুরী তার ভাল লাগে না। প্রকৃত প্রস্তাবে আশরাফ আলী খানে মধ্যে ছিল সাহিত্যিক সত্তা। কাজেই ১৯২৭ সালের নভেম্বর মাসে সাপ্তাহিক বেদুইন, রক্তকেতু, নওজোয়ান ও দৈনিক সোলতান ও শেরে বাংলা এ, কে ফজলুল হকের প্রজা পত্রিকার সম্পাদকের দায়িতব পালন করেন। এ সময় তাঁর ‘‘ ভোরের কুহু’’ গজল গানের পুস্তক প্রকাশিত হয়। পরে তিনি আল্লামা ইকবালের ‘‘ শেকোয়া‘‘র বঙ্গানুবাদ করেন এবং ‘‘ কল্কাল ’’ নামক একটি কাব্য পুস্তক প্রকাশ করেন। বিদ্রোহী আশরাফ মুসলমানদের অধিকার কায়েমের জন্য কলকাতা -ঢাকা জেহাদ কমিটি গঠন করেন।

            দুনিয়াতে যারা রিক্ত, দারিদ্রে্যর জ্বালায় অভিশপ্ত এবং তাদের বঞ্চিত জীবনের ব্যথা বেদনাই তার কাব্যের মূল সুর। কত অসহায় গৃহহারার আশ্রয় স্থল, সেই রাজপথই যাদের আশ্রয় তাদের রিক্ততা নিঃস্বতার অভিশাপকে কবি আপন হৃদয়ের ব্যথা ও বেদনা দিয়ে উপলব্ধি করেছেন। তাঁর ‘‘ কল্কাল ’’( প্রকাশ কাল ১৩৪২) কাব্যটি তারই সাক্ষ্য বহন করছে। তার পান্ডিত্যের পন্ডিতসমাজ তাকে বাংলার ভলটেয়ার বলে আখ্যায়িত করেন। তাঁর গ্রন্থসমূহ (১) প্রথম প্রন্থ বিপ্লবী কবি(১৯২৯), (২) শেকোয়া ( ১৯৩৩), (৩) ‘‘ মা ’’ ( ৪ ) কাঞ্চন ( ১৯৩৫), (৫) রাজপথ, (৬) গাজী আমানউল্লাহ ( ৭) বাস্তব কাব্য ( ৮) ‘‘ মোয়া ’’ (৯) টুকরী ( ১০) আনোয়ার পাশা, (১১) বজ্র কিষাণ, ( ১২ ) আকাশের তলে (উপন্যাস)

৩)  কাঞ্চন মুন্সিঃ

     কাঞ্চন মুন্সি ( জনম ১৮৮০ মৃত্যু - ১৯৪৬) মানুষকে ভালবাসলে শ্রষ্টাকে পাওয়া যায়, এ আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করে জননন্দিত হয়েছে। এমন মহৎ অনেক ব্যক্তির জনম হয়েছে আলফাডাঙ্গা উপজেলাতে। এ উপজেলায় এ ধরনের সমাজ হিতৈষীদের মধ্যে কাঞ্চন মুন্সি অন্যতম। মোঃ কাঞ্চন মুন্সি সাবেক যশোর জেলার বর্তমান ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার কামারগ্রামে ৫ মে, ১৮৮০ সালে এক সম্ভ্রান্ত মুসলীম পরিবারে জনম গ্রহণ করেন। কথিত আছে গরীব শেখের নিস্কর্মা ছেলে, মায়ের এই আত্মগ্লানী সহ্য করতে না পেরে অভিমানী ছেলে সকলের অজান্তে কপর্দকহীন অবস্থায় জীবিকা অর্জনের তাগিদে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিলেন কলকাতা। তখন তাঁর বয়স ২০ বছর। প্রথমে তিনি আসর বোটে খালাসীর চাকুরী নেন। পরবর্তীতে তিনি পোর্ট শিপিং কোম্পানীর ম্যানেজার হন। ঐ কোম্পানীর আরো একটা ব্যবসা ছিল তার নাম ছিল এন্ডরোল কোম্পানী। দুই শিপিং কোম্পানী পরিচারিত হতো। এই এন্ডরোল কোম্পানীর ম্যানেজার ছিলেন কাঞ্চন মুন্সি। এ সময়ে তিনি বেতন পেতেন ৫০০ টাকা। এই এন্ডরোল কোম্পানীর ৩৫ হাজার কর্মচারীর বেতন নিতে হতো কাঞ্চন মুন্সির হাত থেকে। ইংরেজ সাহেবদের বোঝানোর জন্য ১৭ নং বোটের মাঝির নিকট থেকে ইংরেজী ২৬ টা অক্ষর শিখে ঐশ্বরিক জ্ঞানের বলে ইংরেজ সাহেবদের সঙ্গে তিনি ইংরেজীতে কথা বলতেন। তিনি কঠোর পরিশ্রম ও চেষ্টার ফলে ধন ঐশবর্যের মালিক হয়েছিলেন। সঞ্চিত অর্থ তিনি পরহীতকর কাজে ব্যয় করে আনন্দ পেতেন।

            কামারগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়, কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমী, ফজলার রহমান দাতব্য চিকিৎসালয়, মুন্সিবাড়ী মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ ময়দান, খেলার মাঠ, গোরস্থান, জলদীঘি এ দানবীরের গৌরবজনক অবদান। এ ছাড়া বহু লোকের কর্মসংস্থান ও থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। তিনি দক্ষতার সাথে বিচার কার্য পরিচালনা করেছেন। তাঁর আমলে থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি। ১৯৪৬ সালে এই ক্ষণজন্মা কৃতি সন্তান পরলোক গমন করেন।

৩)  এম,এম মান্নান বীর বিক্রমঃ

 

নামঃ

 

মরহুম এম,এ, মান্নান বীর বিক্রম

পিতার নামঃ

 

মরহুম এম, এ লতিফ

মাতার নামঃ

 

মরহুমা আছিরন নেছা

জনম ঃ

 

৩১- ১০ - ১৯৩৪খ্রিঃ

মৃত্যুঃ

 

১৩ - ০৮ - ২০০৩ খ্রিঃ

স্থায়ী ঠিকানাঃ

 

গ্রামঃ চান্দ্রা, ডাকঘরঃ কামারগ্রাম, উপজেলাঃ আলফাডাঙ্গা, জেলাঃ ফরিদপুর।

বর্তমান ঠিকানাঃ

 

১১ নং দক্ষিণ খিলগাঁও, ঝিল মসজিদের উত্তরে, খিলগাঁও, ঢাকা - ১২১৯।

যোগাযোগঃ

 

০১৭৪০৮৭২৯৫১, ০১৯১৮৫১৬৭৩৯।

 

স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে এম, এ মান্নান ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ক্র্যাক ডাউনের পর পাক বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরা অন্যান্য এলাকার মতো ফরিদপুরেও হত্যা, লুট, নারী ধর্ষনসহ নারকীয় অত্যাচার শুরু করলে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের জন্য ভারতে চলে যান এবং চাকুলিয়ায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

            ৮ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর মঞ্জুর এবং সাব - সেক্টর কমান্ডার কে, এন হুদার নেতৃত্বে তিনি যশোরের বয়রা সাব সেক্টরের বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। অক্টোবর মাসে তাকে আলফাডাঙ্গা থানা ও পাশ্ববর্তী এলাকার কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি ফরিদপুর জেলার কামারখালি, বোয়ালমারী, নড়াইল জেলার আড়পাড়া, লোহাগড়া উপজেলার শিয়েরবর ও যশোর জেলার কালিগঞ্জে পাকিস্তানী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন যুদ্ধে সাহসিকতার পরিচয় দেন।

            ১৫ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়ায় পাকিস্তানী সৈন্যদের বিরুদ্ধে অত্যান্ত সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করেন। এ যুদ্ধে এম,এ মান্নানসহ বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা আহত হন এবং ২ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে বীর বিক্রম খেতাবে ভুষিত করা হয়।

            অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় যে, তখন তাঁর একমাত্র সন্তান বীর মু&&ক্তযোদ্ধা শওকত হোসেন (সাবু) পাক সেনাদের সাথে যুদ্ধ করতে করতে রনঙ্গনে শহীদ হন। তিনি পুত্র শোকে যুদ্ধক্ষেত্র পরিত্যাগ না করে পুত্র শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে দেশ মাতৃকার টানে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যুদ্ধ করে যান। স্বাধীনতার পরে তিনি যুদ্ধ বিধস্ত দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিঃস্বার্থ ভাবে নিজেকে বিলিয়ে দেন। তার জীবনের দর্শন ছিল ‘‘দেশ থেকে কি পেলাম এটা বড় কথা নয় আমি দেশকে কি দিয়েছি এটাই বড় কথা’’। এই আদর্শ ধারন করে তিনি অনাড়ম্বর জীবন যাপন করে গেছেন।