মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

নদ-নদী

বারাশিয়া-মধুমতি নদী দ্বারা বিধৌত আলফাডাঙ্গা উপজেলা।

১) মধুমতিঃ

মধুমতি পদ্মা একটি শাখা নদী। এর অপর অংশের নাম গড়াই। মরমী কবি লালনশাহ এর স্মৃতিধন্য কুষ্টিয়া জেলার পাঁচ কিলোমিটার উজানে তালবাড়িয়া নামক স্থানে গড়াই নদীর উৎপত্তিস্থল। গড়াই নদীর গতিপথ দীর্ঘ এবং বিস্তৃত। উৎপত্তিস্থল হতে মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর পর্যন্ত নাম গড়াই । এখান হতে নদীর নাম হয় মধুমতি । মিষ্টি পানি বহন করে বলে সম্ভবত এর নাম মধুমতি। কামারখালি হতে মোহনা পর্যন্ত নদীর পানিতে জোয়ার ভাটা খেলে। মধুমতি খুলনা জেলার আঠারবেকীতে বাগেরহাট জেলায় প্রবেশ করেছে। পরবর্তীতে বরিশালের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হরিণঘাটা মোহনার নিকট বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। মধুখালী উপজেলার কামারখালী হতে মধুমতি নদী বোয়ালমারী, কাশিয়ানী, ভাটিয়াপাড়া, গোপালগঞ্জের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পিরোজপুরের নাজিরপুর গিয়ে মিশেছে। গড়াই (মধুমতি) নদীর তীরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত শিলাইদহ কুঠিবাড়ী কুষ্টিয়া শহর হতে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে নদীর তীরবর্তী স্থানে অবস্থিত । বাউল সম্রাট লালন শাহের মাজার গড়াই নদীর তীরে ছেউড়িয়া গ্রামে অবস্থিত। বাংলার অন্যতম লেখক রায় বাহাদুর জলধর সেনের বাড়ী মধুমতির তীরবর্তী কুমারখালীতে অবস্থিত। স্বাধীনতার পূর্বে মধুমতি নদীর নব্যতা যখন বেশি ছিল। তখন নদীতে কুমির, কামট ও ভাসাল জাতীয় হিংস্র জলজ প্রাণী বাস করত। মানুষ এদের ভয়ে নদীর কুলে খওড় বানিয়ে গোসল করত। মধুমতি নদীতে সুস্বাদু মাছ পাওয়া যায়। যেমনঃ ইলিশ, রিটা, বাচা, ঘাড়ো, পোয়া, চিংড়ি, বেলে, আইড়, রুই কাতলা, মৃগেল, চাপলে, বাশপাতা, ছনখুড়ো, রাম টেংরা ও কালিবাউশ প্রভৃতি।

চন্দনা - বারাশিয়াঃ

চন্দনা পদ্মার একটি শাখা নদী। পাংশা উপজেলার ডাহুকা নামক স্থানে এর উৎপত্তিস্থল। ফরিদপুর জেলার সর্ব উত্তর দিক হতে কচ্ছপ গতিতে প্রবাহিত নদীটি জেলার পশ্চিম সীমানায় উত্তর দিক হতে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে গড়াই নদীতে পতিত হয়েছে। উৎপত্তিস্থল হতে চন্দনা পাংশা উপজেলার ভিতর দিয়ে কালুখালী পর্যন্ত এঁকে বেঁকে প্রবাহিত হয়েছে। তারপর সোজাসোজি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে কামারখালী ও মধুখালীর মধ্যবর্তী আড়কান্দি গ্রামে বারাশিয়া নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। এখানে এই নদীর নাম চন্দনা-বারাশিয়া বা চন্দনা- আড়কান্দি। চন্দনা - বারাশিয়া এই মিলিত স্রোত আরোও দক্ষিণ দিকে বোয়ালমারী ও কাশিয়ানী উপজেলার ভিতর দিয়ে এগিয়ে ভাটিয়াপাড়া বাজারের উত্তর পাশে গড়াই -মধুমতি নদীতে পতিত হয়েছে। নদীটি বর্তমান ভরাট হয়ে গেছে এবং অধিকাংশ স্থানই বর্ষা মৌসুম ছাড়া শুকনা থাকে । নদীর ভাঙ্গন প্রবণতা কম। নব্যতা নাই। পূর্বে চন্দনা নদীর সাথে গড়াই ও কুমার নদীর সংযোগ ছিল। গড়াই এবং কুমার উভয়ই পদ্মার শাখা নদী। বস্ত্ততঃ গড়াই নদীর প্রবাহ চন্দনা নিজে বয়ে নিয়ে তার কিয়দংশ ঢেলে দিত কুমার নদীতে। কিন্ত নদীর গতিপথ পরিবর্তন, বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ নির্মাণ ইত্যাদি কারণে গড়াই এবং কুমারের সাথে চন্দনার সংযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয়ে নদীটি খননের কাজ হাতে নেয় যার ফলে বর্তমানে নদীটিতে পুনরায় পানির প্রবাহ শুরু হয়েছে।