মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

মুক্তিযুদ্ধে আলফাডাঙ্গা

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন দুটি সম্মুখ সমরের স্থানঃ

 

          (ক) শিরগ্রামঃ

 

            আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদর হতে প্রায় ১৫ কিঃ মিঃ দূরে গোপালগঞ্জ জেলাধীন ভাটিয়াপাড়া নামক স্থানে  পাক হানাদার বাহিনীর ঘাঁটি ছিল। বর্ণিত ঘাঁটি হতে পাক হানাদার বাহিনী নৌপথে এবং স্থল পথে ফরিদপুর জেলাধীন আলফাডাঙ্গা এবং বোয়ালমারী উপজেলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন স্থানে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাত এবং নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকল শ্রেনী পেশার মানুষ হত্যা করত। ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ সালে বর্ণিত ঘাঁটি হতে অত্র উপজেলার পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলায় আক্রমণের উদ্দেশ্যে বারাশিয়া নদী পথে লঞ্চ যোগে পাক হানাদার বাহিনী যাওয়ার সময় অত্র উপজেলাধীন বানা ইউনিয়নের শিরগ্রাম মাদ্রাসা ও গোরস্থানের সন্নিকটে বারাশিয়া নদীর উভয় তীরে অবস্থানরত মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং বর্ণিত যুদ্ধ দিনব্যাপী সংঘঠিত হয়। দিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জনাব মোঃ আতিয়ার রহমান, পিং- আহেজ মোল্লা, সাং- টোনারচরসহ মুyুক্তবাহিনীর ৪ জন সদস্য শাহাদৎ বরণ করেন মর্মে জানা যায়। এ ছাড়া পাক হানাদার বাহিনীর কয়েকজন সদস্য মারা যায়। সম্মুখ সমরের বর্ণিত স্থানটি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব গাথা একটি স্থান। উক্ত স্থানে বাংলা মায়ের দামাল সন্তানেরা জীবন বাজি রেখে রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষে দেশের জন্য প্রাণ দেন বিধায় স্থানটি সম্মুখ সমরের স্থান হিসেবে  মর্যাদা দিয়ে স্থানটিকে চির স্মরনীয় করে রাখার জন্য স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা প্রয়োজন।

           (খ) কৃষ্ণপুরঃ

            গোপালগঞ্জ জেলাধীন ভাটিয়াপাড়া নামক স্থানে অত্র অঞ্চলের পাক হানাদার বাহিনীর অন্যতম ঘাঁটি ছিল। পাক হানাদার বাহিনীর এ ঘাঁটি ছিল মধুমতি ও বারাশিয়া নদীর সংগম স্থলে। সংগম স্থলের উত্তর পাড়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামটি অবস্থিত। পাক হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার জন্য এ গ্রামে মুক্তিবাহিনী সদস্যগণ সংঘঠিত হয়ে ৩ মে, ১৯৭১ সালে উক্ত পাক বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালায়। দিন ব্যাপী এ সম্মুখ যুদ্ধে নুর মিয়া ও আঃ সালাম নামে ২ জন মুক্তিযোদ্ধা সদস্য শাহাদৎ বরণ করেন। পুনরায় একই গ্রামে মুক্তিযোদ্ধারা সুসংগঠিত হয়ে ৪ অক্টোবর, ১৯৭১ সালে পাক বাহিনীর উপর প্রচন্ড আক্রমণ চালায়। প্রবল আক্রমণে পাক বাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পাক বাহিনী জঙ্গী বিমানের সাহায্যে মুক্তিবাহিনীর উপর বোমা হামলা চালায়। এ যুদ্ধে মুক্তিবাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা পুনরায় সংগঠিত হতে থাকে এবং এ গ্রামে বিপুল সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধার সমাবেশ ঘটে এবং বীর বিক্রমে পাক বাহিনীর ঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়। এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর তারিখে পাক বাহিনীর ভাটিয়াপাড়া ঘাঁটির পতন ঘটে। পাক হানাদার বাহিনীর এ ঘাঁটির পতনের মাধ্যমে এ অঞ্চল পাক হানাদার মুক্ত হয়। চুড়ান্ত এ যুদ্ধে একজন মুক্তিযোদ্ধা সদস্য শাহাদৎ বরণ করেন। এ ভাবে মুক্তিবাহিনীর আক্রমণের মুখে সারাদেশে পাক হানাদার বাহিনীর ঘাঁটিগুলোর পতন ঘটতে থাকে। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে মুক্তিবাহিনীর চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন দেশের অভ্যূদয় ঘটে। অত্র উপজেলার কৃষ্ণপুর এলাকায় মুক্তিবাহিনীর সদস্যগণ পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বীর বিক্রমে যুদ্ধ করে এতদঞ্চলে অবস্থিত পাক বাহিনীর অন্যতম শক্ত ঘাঁটির পতন ঘটান। একই সাথে বর্ণিত স্থানে সম্মুখ যুদ্ধে বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা শাহাদৎ বরণ করেন বিধায় স্থানটি সম্মুখ সমরের স্থান হিসেবে চির স্মরনীয় করে রাখার জন্য স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা প্রয়োজন।